তারেক রহমানের আশ্বাস পেল বঞ্চিতরা

বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশার অবসান হতে যাচ্ছে। হাইকমান্ডের আশ্বাসে বিদ্রোহ থেকে সরে আসছেন সাবেক নেতারা। ঈদুল আজহার পরে যেকোন দিন ছাত্রদলের নতুন কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহেই ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। আর ক্ষুব্ধ নেতাদের যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে ঠাই দেয়া হবে। ছাত্রদল নেতাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।







গত ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ছাত্রদলের কাউন্সিল। বয়সসীমা বাতিল করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে অনড় অবস্থানে থেকে আন্দোলন করেছিল ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। আর আন্দোলনের জন্য বিলুপ্ত কমিটির ১২ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। আর বহিস্কারের ঘটনায় জন্য তখন ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। আর তখন আন্দোলনের মুখে ছাত্রদলের প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন বিতরণও বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি ছাত্রদলের কাউন্সিলের জন্য যেই তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল তাও স্থগিত করা হয়।







সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই মূলত ছাত্রদলের সংকট সমাধান হল। তারেক রহমানের যেকোনো সিদ্ধান্ত মানার অঙ্গীকার করেছেন বিলুপ্ত কমিটির নেতারা।







সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রথমে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতাদের দাবির কথা শোনেন তারেক রহমান। এরপর তিনি তাদের কাছে সংগঠনটির আগামী দিনের নেতৃত্ব বাঁচানোর জন্য কাউন্সিলের সহযোগিতা চান। একইসঙ্গে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কার আদেশ তুলে নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করারও আশ্বাস দেন।







ছাত্রদলের সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে। তারাই দফায় দফায় ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সংকট সমাধানের পথ বের করেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সন্তান ভুল করলে তাৎক্ষণিক শাসনও বাবা করে, পরক্ষণেই ক্ষমাও বাবা করে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করার মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের চলমান সংকটের সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। এখন কাউন্সিল যেকোনও সময় হয়ে যাবে।







বৈঠকের বিষয়ে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ইখতিয়ার রহমান কবির বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের অভিভাবক। তিনি ছাত্রদল নিয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা আমরা মেনে নেবো। আমাদের আর কোনও ক্ষোভ নেই। তিনি বলেন, তারেক রহমান ছাত্রদলের আগামী কাউন্সিলে সহযোগিতা করতে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবে আমরা সহযোগিতা করবো। তার নির্দেশ অক্ষরে-অক্ষরে পালন করবো, যা তাকে কথা দিয়েছি।







নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠক উপস্থিত থাকা বহিষ্কৃত সাবেক একজন সহসভাপতি বলেন, আমরা বৈঠকে এক যুগের নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছি। আমরা বিএনপির হয়ে কাজ করতে চাই। সাময়িক সময়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জন্য তারেক রহমানের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও আমাদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।







প্রসঙ্গত, ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। এরপর থেকেই বিলুপ্ত কমিটির নেতারা কমিটি গঠনের দাবিতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। ২২ জুন আন্দোলনকারী ছাত্রদলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। এতে তফসিল অনুযায়ী ১৫ জুলাই কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।